বাগমারায় বন্যার পানি বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

বাগমারায় বন্যার পানি বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
বাগমারায় বন্যার পানি বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

আলোকিত রাজশাহী: রাজশাহীর বাগমারার প্রায় সকল ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার পানি।  বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। বন্যার পানি বাগমারা উপজেলার নদ-নদীতে বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁর মান্দা উপজেলার শিবনদের টেংরা নামক স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে সরাসরি বন্যার পানি বাগমারাতে প্রবেশ করেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বাগমারাবাসীও পড়েছে বন্যার কবলে। বন্যা কবলিত হয়েছে উপজেলার- কাচারী কোয়ালী পাড়া, দ্বীপপুর, গোবিন্দপাড়া, নরদাস, গণিপুর, আউচপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা,  শ্রীপুর,  ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা, তাহেরপুর পৌরসভার কিছু এলাকা, বাসুপাড়া, গোয়ালকান্দী, যুগীপাড়া, হামিরকুৎসাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন। প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার সংখ্যা। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গরু-ছাগল, ধান ক্ষেত, পাট, পান বরজ, পুকুর, সবজি ক্ষেত।

বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে লোকজনের বসত বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় মানুষের আরামের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে পানি বন্দী মানুষের। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে গরু-ছাগল নিয়ে বিভিন্ন উঁচু বাঁধে ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। বন্যা কবলিত এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধগুলো দূর্বল হওয়ায় সেখানে মানুষ আশ্রয় নিতে ভয় পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কোন বাঁধ বন্যার পানির আগেই ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।

এদিকে রাত ২ টার দিকে দ্বীপপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাট জোলাপাড়া এলাকার প্রধান রাস্তা ভেঙ্গে পানির ব্যাপক গতি নিয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানির প্রবল চাপে উক্ত ইউনিয়নের নানসর (কালীতলা) ব্রীজ সংলগ্ন খালের বাঁধে ৭-৮ ফুট উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে ঘর-বাড়ি রক্ষায় এলাকার লোকজন বাঁধটি কেটে দেয়। সেই সাথে কাচারী কোয়ালী পাড়া ইউনিয়নের ঢেকরতলা ব্রীজের নিচে  পানি চলাচলের প্রবেশ পথ বন্ধ করে মাছ চাষ করছিল স্থানীয় লোকজন। ঐ বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ চাষের জন্য বাঁধটি ভেঙ্গে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

কাচারী কোয়ালী পাড়া ইউনিয়ন। গ্রাম: কালিকাপুর

একসুত্রে জানা যায়, বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর পরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি  নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যা বগমারায় প্রবেশ করার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ। বন্যা কবলিত এলাকায়  দ্রুত সময়ের মধ্যে দ্রুত মোকাবিলা করার লক্ষ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

একসুত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার বন্যার শুরু থেকেই বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন বন্যার কারণে যারা থাকবেন তাঁদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নদের বন্যায় প্লাবিত এলাকার জনগণদের পাশে থাকার কথা বলা হয়েছে।

একসুত্রে জানা যায়, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ জানান, উজান থেকে বন্যার পানি এসে বাগমারার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছি। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

একসুত্রে জানা যায়, এদিকে রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, বন্যার কারণে উপজেলাবাসী যেন সমস্যায় না পড়েন সে জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দকে সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ।  সেই সাথে জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রয়েছে। বন্যার কারনে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যেন হয়রানীর শিকার না হয় সে জন্য জরুরী প্রয়োজনে সব রকমের সহযোগীতা প্রদানের জন্যও বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here