বাগমারার যশের বিলের অবৈধভাবে পুকুর খনন থামছে না 

বাগমারার যশের বিলের অবৈধভাবে পুকুর খনন থামছে না 
বাগমারার যশের বিলের অবৈধভাবে পুকুর খনন থামছে না 

রস্তম আলী, বাগমারা: রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায় ফসলি ধানি ও তিন ফসলি জমিতে ১২টি পুকুর খনন এখনো চলছেই গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের যশের বিলে । উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের যশের বিলে কয়েকজন প্রভাবশালী মহল আবাদি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব ভুমিকা পালন করছেন। এতে কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকীর মুখে পড়ছে।

এদিকে অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে পুকুর খনন বন্ধের প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তালতলী বাজারের চার রাস্তার মোড়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসি। এছাড়া পুকুর খননের বন্ধের জন্য বাগমারা সহকারি (ভুমি) কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে এক যোগে দুইটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার আবেদ আলী মোল্লা এছাড়াও তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন

কনোপাড়া গ্রামের আকরামের ছেলে আফজাল হোসেন,সাজুড়িয়া গ্রামের প্রভাবশালী সেফাতুল্ল্যা ওরুপে সেফার ছেলে কামাল হোসেন, কনোপাড়া গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে শামসুদ্দিন,সেনোপাড়া গ্রামের জফিও উদ্দিনের ছেলে পিন্টু আলী,কাউছার,কামাল,টিক্কা,সাজুড়িয়া গ্রামের রোফাতের ছেলে রুহুল আমিনসহ অনেকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব রয়েছে।এছাড়া তারা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন কাজ চলছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন।

সরেজমিনে ও এলাকাবাসির সুত্রে জানান, গত কয়েক দিন আগে রুহুল আমিন, বকুল ও জামিল নামের কয়েকজন ব্যাক্তি জমির মালিকদের জিম্মি করে পুকুর খনন কাজ শুরু করেন। এবং কয়েকজন কৃষক স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে বাগমারা সহকারি (ভুমি) কমিশনার মাহাবুল হাসান পুলিশসহ ঘঁটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ড্রেজার মেশিন ভাংচুর করে চলে যায়।

গত ৭ জানুয়ারি, রাতে সেনোপাড়া গ্রামের পিন্টু, কাউছার গং অবৈধ পুকুর খননের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ৩টি এস্কেভেটর, মেশিন ভাংচুর করে চলে যায়। মাঝে মাঝে এমন অভিযানে এলাকাবাসির মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ দিকে রবিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে আগের তুলনায় ড্রেজার মেশিনের সংখ্যা দ্বীগুন হয়েছে, এখন রাত ৮টার পর থেকে চালু করা হয় ২০টি ড্রেজার মেশিন সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত অব্যাহত রাখে। অনেক কৃষক প্রভাবশালী অবৈধ পুকুর খননকারীদের নাম বলতে ভয় পেতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে ড্রেজারের ড্রাইভাররা বলেন অবৈধ হলে, সকলেই অবৈধ কিন্তু শুধু আমাদের ড্রেজারটি ভাংচুর করা হলো অন্য ড্রেজার গুলো এখনো চলছে তাহলে আমাদের কি অপরাধ আমরাতো ভারায় কাজ করি বলে প্রশ্ন করেন স্থানীয় সাংবাদিকদের।

দক্ষিণ সাজুঁড়িয়া গ্রামের হুমায়ন কবির বলেন, এভাবে অবৈধ পুকুর খনন চলতে থাকলে আমাদের এলাকার কৃষকেরা ও গবাদী পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দেবে।

এ ব্যাপারে গোয়ালকান্দি ইউপি সদস্য আবেদ আলী মোল্লা বলেন, প্রসাশনকে মেনেজ করে চলছে বাগমারার গোয়ালকান্দি যশের বিলের অবৈধ পুকুর খনন, তিন ফসলি জমি অবৈধভাবে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আমি জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত করেছি তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বর্ষাকালে যশের বিলের চারিদিকে প্রায় ৩ থেকে ৪শ মৎস্যজীবী মাছ শিকার এবং বিলের পানি নেমে গেলে সেই কৃষি জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এখন তারা বেকার হয়ে পড়াই এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তিনি আরোও বলেন, যশের বিলের উত্তর পশ্চিম কর্নারে মৌজায় প্রায় ৪৫০ বিঘা বিভিন্ন ধরনের ফসলী জমির উপর পুকুর খনন করে মাছ চাষের নামে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছেন। এতে বর্ষা মওসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়বে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকবে। অপরদিকে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করা যাবে না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চলছে হরদম পুকুর খনন।

ব্যবসার নামে ফসলি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করলেও কেউ এগিয়ে আসছে না বলে কৃষকরা দাবি করেছেন। কৃষকদের অভিযোগ প্রভাবশালীদের হাত থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ফসলি জমিতে নিয়ম বর্হিভূত অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের জন্য দফায় দফায় ভুক্তভোগীরা একাধিকবার স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

এছাড়া পুকুর খননকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদ বলেন, আমি কয়েকদিন আগে রাতে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ভাংচুর করে পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছি এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here