নবরূপে ফিরছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘী

আলোকিত রাজশাহী : রাজশাহী সিটি কর্পোরশনের মেয়র এ. এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘী নবরূপে গড়ে উঠছে।

একইসাথে সোনাদিঘী ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য।  সোনাদিঘীকে অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘীকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটা পথসহ, মসজিদ, এম্ফি থিয়েটার ( উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার। এ লক্ষে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে কাজ।

এ সময় সোনাদিঘি ছিল বিনোদন কেন্দ্রের উন্নতম স্থান। সোনাদিঘীর চারপাশ উন্মুক্ত ছিল। এর পানি এতোটাই স্বচ্ছ ছিল লোকজন রান্নার কাজে এই পানি ব্যবহার করতো। পানিতে যাতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে সে তদারকি করার দায়িত্বে থাকতো রাজশাহী পৌরসভার কর্মচারীরা। পদ্মা নদীর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল এই দিঘি। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি দিঘিতে প্রবেশ করতো। নদীর ঘোলা পানি থমকে যাওয়ার পর দেখা মিলতো স্বচ্ছ পানির।

১৯৮০-৮১ সালের দিক থেকে সোনাদিঘীর চারপাশে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়। ঢাকা পড়ে যায় সোনাদিঘির মুখ। রাস্তা থেকে আর সোনাদিঘী দেখা যেতো না তখন।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের(পিপিপি) আওতায় এনা প্রোপার্টিজ নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৬ তলা বিশিষ্ট ভবন সিটি সেন্টার নির্মাণ ও সোনাদিঘীকে সাজানোর চুক্তি করেন রাজশাহী সিটিকর্পোশন।

রাজশাহী সিটিকর্পোরশন মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনের প্রথম মেয়াদের সময়কাল (২০০৮-১৩) এর নির্মাণ কাজ এগোলেও পরবর্তী ৫ বছর কাজ বন্ধ হয়ে থাকে। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর  সিটি সেন্টার ও সোনাদিঘীকে সাজানোর গতি ফেরায় রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সোনাদিঘীকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের সিটি সেন্টারে পুনর্বাসন করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সোনাদিঘী মসজিদকে সিটি সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এরপর শুরু করা হয় স্থাপনা ভাঙার কাজ। নির্মাণ কাজ ও সাজানো শেষে সিটি সেন্টার হবে অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র। আর সোনাদিঘী হবে দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র।

সোনাদিঘীকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার পুরো চিত্র পাল্টে যাবে। দর্শানার্থীদের পাশাপাশি পুরো বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও এর সুফল ভোগ করবেন। এই দিঘীর চারপাশে পর্যাপ্ত বসার যায়গা রাখা হবে। পরিবার, বন্ধুদের সাথে নিয়ে মানুষ সেখানে বসবে। উপভোগ করবে স্বচ্ছ পানির জলধারা

রাতে আলোকায়ন থাকবে। থাকবে ফোয়ারা। সংস্কার কাজ শেষ হলে তিন দিক থেকে সোনাদিঘীকে দেখা যাবে। তখন এটি আগের মতোই নগরের একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here